নবীগঞ্জে জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অর্ধশতাধিক।
আপডেট সময় :
২০২৬-০৪-২০ ১১:৪০:৫২
নবীগঞ্জে জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অর্ধশতাধিক।
আলী হোসেন হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে সরকারি জমি দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেগমপুর গ্রামের খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র মনিরুজ্জামান ও হেলাল মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র মঞ্জুর মিয়া (২৩) গুরুতর আহত হন এবং পরে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মঞ্জুর মিয়া নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন।
নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করছেন। প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করে হামলা চালায় এবং তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে হত্যা করে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
[4/20, 12:08 AM] রং মাওলা ধনুক: ঘাতক বাস আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতার উত্তেজনা, বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ
কে এম সোহেব জুয়েল ঃবরিশালের গৌরনদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যুর পর ঘাতক বাস আটককে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উত্তেজনা, বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতে উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী হাসপাতালের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় বরিশালগামী একটি বাসের চাপায় ইউনুস সেরনিয়াবাত (৬০) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইউনুস আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করে বাসটি ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ আশোকাঠী পেট্রলপাম্প এলাকায় বাসটি আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে বাসটি আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হান্নান শরীফের সহযোগী ১৫ থেকে ২০ জন যুবক এসে আমাদের কাজে বাধা প্রদান করে। পরে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ঘটনাস্থলে এসে বাসটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে এবং কয়েকজন সদস্যকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। পরে খবর আসে যে বাসের ধাক্কায় আহত ইউনুস মারা গেছেন। তখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে হান্নান শরীফ ও তার লোকজন সরে যান। এবং দুর্ঘটনার পর সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই বিএনপি নেতা হান্নান শরীফ ও তার সহযোগিরা নিহতের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঠিয়ে দেন যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।'
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, 'বরিশালে চোখের ডাক্তার দেখাতে শরীয়তপুর থেকে ৬২ জন রোগী নিয়ে বাসটি যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাসটি পেট্রলপাম্পে সাইড করতে গেলে হাইওয়ে পুলিশ চালকের ওপর চড়াও হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। আমরা পুলিশের কাজে কোনো বাধা দেইনি।'
নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই মো. মিন্টু বলেন, 'মানুষ মারা গেছে, কিন্তু আইন প্রয়োগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হান্নান শরীফের সহযোগিরা গাড়ি নিতে গেলে পুলিশকে বাধা দিয়েছে। এখনো নিহত ইউনুসের দাফন সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আইনি জটিলতা শেষ হলে জানাজা হবে।'
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, পুলিশের কাজে বাঁধা দিয়ে হান্নান শরীফ মারাত্মক অন্যায় করেছেন। তার মতো লোকের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ নেয় না।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি এবং ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক মো. হেলাল বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে থানা পুলিশের ঝামেলা হয়েছিল। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স